fbpx
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

লটকন ফল চাষ উপকারীতা ও অপকারীতা

আসিফ / ৩২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১
লটকন-ফল
লটকন-ফল

86 / 100

কেন আছেন বন্ধুরা। আজকে আপনাদের জানাবো লটকন ফল এর উপকারীতা ও অপকারীতা সম্পর্কে। ছোট্ট গোলগাল নিরীহ চেহারার ফলটির নাম লটকন। হলুদ রঙের এই টক-মিষ্টি স্বাদের ফলটি আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লটকন ফল সরাসরি খাওয়া যায় বা জেল তৈরি করেও খাওয়া যায়।লটকন এক প্রকার দেশীয় ও অপ্রচলিত ফল, যা অত্যন্ত পুষ্টি ও ঔষধিগুণে ভরপুর। লটকন ফল ইংরেজি নাম হলো Burmese grape ও বৈজ্ঞানিক নাম- Baccaurea sapida এটি মাঝারি আকারের চির সবুজ বৃক্ষ।  baccaurea motleyana

লটকন ফল এর উপকারীতা:

লটকন-ফল

লটকন-ফল

 

লটকনের বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে যেমন হারফাটা, ডুবি,লটকা, লটকাও, কিছোয়ান ইত্যাদি। তবে যে নামেই ডাকা হোক ছোট্ট এই ফলটি কিন্তু বেশ উপকারী। এখন চলছে লটকন এর মৌসুম। রক্ত ও হাড়ের জন্য বিশেষ উপকারী আয়রন। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৫.৩৪ মি.গ্রা আয়রন থাকে।লটকনে ভিটামিন বি পাওয়া যায়। প্রতি ১০ গ্রাম লটকনে ১০.০৪ মি.গ্রা ভিটামিন বি ওয়ান ও প্রতি ১০০ গ্রামে ০.২০ মি.গ্রা ভিটামিন বি টু পাওয়া যায়।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লটকন ফল রাখতে পারেন। লটকনে আছে প্রচুর পরিমাণের ভিটামিন বি। এতে ভিটামিন বি ওয়ান রয়েছে ১০.৪ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন বি টু রয়েছে ০.২০ মিলিগ্রাম।

 

প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৯ গ্রাম ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম,পটাশিয়াম ও ক্রোমিয়াম থাকে। পাকা খাদ্যে মানের দিক দিয়ে খুবই সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের কোয়ায় খাদ্যশক্তি থাকে প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি। অবাক বিষয় হলো এতে ক্যালরি আছে আমাদের জাতীয় ফল হিসেবে পরিচিত কাঁঠালের প্রায় দ্বিগুণ।

 

লটকন ফল এই ভিটামিন সি আছে প্রচুর। সিজনের সময় প্রতিদিন দুই-তিনটা লটকন খাওয়া মানেই আমাদের দৈনন্দিন ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হওয়া। ভিটামিন সি ত্বক, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখে। লটকনের ভিটামিন সি বেশি থাকায় দিনে দুই তিনটি লটকন ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করতে পারে। রক্ত ও হাড়ের জন্য বিশেষ উপকারী আয়রন। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৫.৩৪ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে।

লটকনে কিছু পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ১.৪২ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৪৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে। তাই সুস্থ থাকতে লটকন খান।

যে সব রোগ থেকে লটকন আপনাকে বাচাবে:

> নিয়মিত লটকন খেলে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন চর্মরোগ থেকেও রক্ষা পাবেন।

> বমি বমি ভাব দূর করতে পারে লটকনে থাকা পুষ্টিগুণ।

> মানসিক অবসাদ দূর করে।

> রক্তে শর্করার পরিমান ঠিক রাখে লটকন।

> লটকন ফল এর পাতা ও শিকড় খেলে পেটের নানারকমের অসুখ ও জ্বর ভালো হয়ে যায়।

> লটকনের বীজ গনোরিয়া রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

> ডায়ারিয়া দূর করতে লটকনের পাতার গুঁড়ো কার্যকরী।

 

লটকন ফল এর উন্নত জাত:

বারি-১ লটকনের উন্নত জাত। এ জাত সারা দেশে রোপনউপযোগী। এ ছাড়া বাউ লটকন-১ ও ভালো জাত।

মাটি ও রোপনের সময়:

লটকন ফল এর চারা বৈশাখ – জৈষ্ঠ মাসে লাগালে ভালো হয়। তবে ভাদ্র – আর্শিন মাসে ও লাগানো যায়। লটকন স্যাঁতসেঁতে ও হালকা ছায়াযুক্ত স্থান যেমন আম কাঠালের মত বড় গাছের নিচে ভালো হয়। এ গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে গাছ মরে যায়। তাই পানি জমে থাকা যাবেনা। পানি জমেনা কিন্তু বেশি বৃষ্টি হয় এমন এলাকায় লটকন ভালো হয়।

লটকন ফল এর বাগান ব্যবস্থাপনা

বাগানে প্রথমে কিছু পুরুষ ও কিছু কলম করা স্ত্রী গাছ দিয়ে শুরু করা হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। কারণ এতে পরাগায়নে সুবিধা হয় ফলে ফলন বেশি হয়। লটকন গাছে কেবল মাত্র ফুল আসার পরই পুরুষ গাছ ও স্ত্রী গাছ চেনা যায়। তাই কলম করা গাছ লাগালে স্ত্রী গাছ নিশ্চিত হয়। একটি গাছে ফুল আসতে ৩-৪ বছর সময় লাগে তার পর যদি গাছটি পুরুষ হয় তাহলে কৃষক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কলমের চারা লাগানোই ভালো।  চারা রোপনের ১০/১৫ আগে ৭/৭ মিটার দূরত্বে ১x১x১ মিটার গর্ত করতে হবে। প্রতি গর্তে ১৬/২০ কেজি গোবর ৫০০ গ্রাম টি এস পি ২৫০ গ্রাম এমওপি সার দিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। তার পর ১৫ দিন পর কলমের চারা রোপন করতে হবে।

> চারা লাগানোর পরই পানি ও খুটি দিতে হবে।

> চারা লাগানোর পর কিছু দিন ঘন ঘন পানি দিতে হবে।

> ফল ধরার পূর্বেই সেচ দিতে পারলে ফলন ভালো হয় এবং ফল আকারে বড় হয়।

> লটকন ফল বেশি আসলে পাতলা করতে হবে যেন ফল বড় হয়। ফল সংগ্রহের পর রোগাক্রান্ত ডালপালা ছাটাই করতে হবে।

 

রোগবালাই :

অ্যানথ্রাকনোজ হলো লটকনের প্রধান রোগ।  কলেটোট্রিকাম সিডি নামক ছত্রাকের কারণে  লটকনের অ্যানথ্রাকনোজ হয়। পাতা – কান্ড – শাখা-প্রশাখা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ফলের গায়ে কালো কালো ছোট দাগ এ রোগের প্রধান লক্ষণ। এতে ফল শক্ত, ছোট হয়ে যেতে পারে। তবে ফল পাকা শুরু করলে দাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ও ফল পচেঁ যেতে পারে।

 

প্রতিকার :

গাছে লটকন ফল আসার পর টপসিন-এম বা নোইন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম বা টিল্ট-২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ১৪ দিন অন্তর অন্তর   ২/৩ বার  স্প্রে করে এ রোগ দমন করা যায়। গাছের নিচে ঝরা পাতা ও ফল পরিষ্কার করে দিতে হবে।

লটকন ফল ঝরা প্রতিরোধ:

পরাগায়নের অভাব, অধিক খরা বা শীত মৌসুমে এবং ফুল ধরার সময় মাটিতে সেচ না দেয়া, মাটিতে বোরনের অভাব, রোগ বা পোকার আক্রমণ ইত্যাদি অনেক কারণে ফল ঝরে যেতে পারে।

পরাগায়নের অভাবে ফল ঝরে তাই বাগানে পুরুষ গাছ লাগাতে হবে। বৃষ্টি না হলে সেচ দিতে হবে।

লটকন ফল এর পোকামাকড়:

ফল যখন ছোট থাকে তখন ফল ছিদ্রকারী পোকা ফলের খোসা ছিদ্র করে ভিতরে ডিম পারে। ফলে ডিম খেকে ক্রীড়া উৎপন্ন হয়ে ফলের নরম খোসা খেয়ে ফেলে।

দমন: আক্রান্ত ফল পোকাসহ মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ মি.লি. হারে পারফেকথিয়ন বা লেবাসিড ৫০ ইসি মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার ফল ছোট অবস্থায় গাছে স্প্রে করতে হবে।

 

ফল সংগ্রহের সময় ও ফলন :

লটকন-ফল

লটকন-ফল

ফাল্গুন মাসে গাছে লটকন ফল এর ফুল আসে। আষার – শ্রাবন ( জুলাই- আগস্ট ) মাসে ফল পাকা শুরু করে। ফলের রং হালকা হলুদ তেকে ধূসর বর্ণের হলেই ফল সংগ্রহ করা হয়।লটকন ফল ভালো হরে পকার পর সংগ্রহ করতে হয়। তানাহলে ফল বেশি টক হয়। কলমের চারা লাগালে সাধারণত ৪ বছর বয়সে ফল আসে। কিন্তু বিচির চারা গাছ লাগালে ৮-৯ বছর সময় লাগতে পারে। গাছের আকারবেধে সাধারণত ৫ কেজি হতে ১২০/১৫০ কেজি লটকন ফল আসতে পারে। baccaurea motleyana

লটকন ফল উৎপাদন এলাকা:

বাংলাদেশে নরসিংদী জেলা লটকন ফল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। নরসিংদী জেলার শিবপুরও বেলাব উপজেলায় এ লটকন ফল সবচেয়ে ভালো হয়। তবে নরসিংদী জেলার সকল উপজেলায়ই লটকন ফল ভালো জন্মে। এবং নরসিংদীতে উৎপাদিত লটকন ফল খেতে ও অনেক সুস্বাদু।

লটকন ফল চাষের ক্ষেত্রে যেকোন পরামর্শের জন্য নিকটস্থ উপজেলা কৃষি অফিস অথবা কৃষি কল সেন্টার ১৬১২৩-এ যোগাযোগ করুন।

** উপকারী এবং পছন্দ করেন বলেই লটকন ফল একবারে বেশি করে খেতে যাবেন না তাতে ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।

এধরণের আরো পোস্টের জন্য ভিজিট করুন

লটকনের পুষ্টিগুণ

আপনার মতামত কমেন্ট করে জানান

রেড লেডি পেঁপে চাষ কেন করবেন জেনে নিন

থাই সরপুঁটি মাছের চাষ পদ্ধতি

টার্কি মুরগি কম ডিম দিচ্ছে? যা করতে হবে

ফেসবুকে যুক্ত হউন


আপনার মতামত লিখুন :

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ