fbpx
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু আনুশকা জান্নাতি নাকি জাহান্নামী ? মুখ খুললেন আযহারী

তাইফুর ইসলাম / ৬২৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু আনুশকা জান্নাতি নাকি জাহান্নামী
ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু আনুশকা জান্নাতি নাকি জাহান্নামী

82 / 100

ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু আনুশকা জান্নাতি নাকি জাহান্নামী ? মুখ খুললেন আযহারী। ব্যভিচার করায় অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটেছে ,মদ পান করা অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটেছে, এরকম বড় কোন কবিরা গুনাহ সম্পাদন করা অবস্থায় যদি কারো মৃত্যু ঘটে যায় সে ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে তার মৃত্যুটি খারাপ ছিল।

বাথরুমে গিয়ে অনেকে মৃত্যুবরণ করেন, বাথরুমে মৃত্যুবরণ করা ভাল কিনা মন্দ?

এই কথার উত্তরে বলা যেতে পারে পৃথিবীতে যতটি প্রাণ আছে প্রতিটি প্রাণ কে মৃত্যুবরণ করতে হবে। সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং১৮৫ “কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত”আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আমরা পৃথিবীতে যারা এসেছি আবার আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে এটা হচ্ছে চিরসত্য বা মহাসত্য কথা ।

কিন্তু আমরা কোথায় মৃত্যুবরণ করবো এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না এবং সে ব্যাপারে সূরা লোকমান, আয়াত নং ৩৪ বলা হয়েছে অর্থাৎ কোনো মানুষই বা প্রাণীই জানে না যে সে কোন জায়গায় মৃত্যুবরণ করবে।এ ব্যাপারে শুধুমাত্র আল্লাহ জ্ঞান রাখেন তিনি মহা জ্ঞানী এবং সব ব্যাপারে তিনি খবর রাখেন।

ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু

আমরা কোরআনের দুটি আয়াতের মধ্য থেকে জানতে পারলাম আমাদের প্রত্যেকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এটা নিশ্চিত। কিন্তু আমরা কিভাবে মৃত্যুবরণ করবো বা কোথায় মৃত্যুবরণ করবো সে ব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা। এখন মূল কথা হলো কোন ব্যক্তি যদি বাথরুমে মৃত্যুবরণ করে সেটা কি ভালো মৃত্যু না মন্দ এ বিষয়ে কোন কথা বলার আমাদের সুযোগ নেই ,কারণ এ ব্যাপারে ইসলাম আমাদেরকে কিছুই জানায়নি। বাথরুমের ভেতর মৃত্যু হলে এটা যে খারাপ মৃত্যু বা সে জাহান্নামে যাবে এরকম কথা বলার কোন সুযোগ নেই ।ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু।

 

খারাপ বা ভালো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কারো মৃত্যুর কারণে এটা খারাপ মৃত্যু ভালো মৃত্যু বলে আখ্যায়িত করা যাবে না। বাথরুমে নানাভাবে মৃত্যু হতে পারে, ধরেন কেউ যদি বাথরুমে অজু করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে বা গোসল করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে অথবা প্রাকৃতিক কাজ সারতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে এর কোনোটির ক্ষেত্রেই খারাপ মৃত্যু বলে কোন সিদ্ধান্তে আসা যাবেনা।

সিদ্ধান্তে আসা যাবে এভাবে সে তার জীবনটা কিভাবে কাটিয়েছে। তিনি যদি ঈমানের উপর থাকেন আল্লাহর এবং রাসূলের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন এবং যদি তিনি সৎকর্ম করে থাকেন তাহলে তার মৃত্যু টা ভালো মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা প্রবল ধারণা করতে পারি। কিন্তু কে জান্নাতি হবে আর কে জাহান্নামী হবে সে ব্যাপারে আল্লাহ পাকই সিদ্ধান্ত নিবেন।ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু।

 

এক্ষেত্রে একটি হাদীসের সম্পর্কে ভুল ধারণা থাকার কারণে , হাদীসটি হল সহি বুখারী, হাদিস নং ৬৬০৭ অর্থাৎ মানুষের কর্মফল নির্ধারিত হয় শেষ কাজের উপর ভিত্তি করে তার শেষ জীবনটা যদি ভাল হয় তাহলে তার মৃত্যু টা ভাল হয়েছে বলে ধরা হবে। বাথরুমের ভেতরে মৃত্যু হলেই সেটা খারাপ মৃত্যু অনেকে ভাবতে পারেন আসলে ব্যাপারটা এমন নয়। একজন ব্যক্তি তার শেষ জীবনে কি কাজ করেছে সেটার উপর ভিত্তি করে বলা হবে তার মৃত্যুটি ভালো হয়েছে নাকি মন্দ। ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু।ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু।

 

অনেকের এমনও হতে পারে জীবনের শুরুতে সে ইসলামকে মানতেন না আল্লাহকে বিশ্বাস করতেন না কিন্তু শেষ জীবনে এসে তিনি বিশ্বাসী হয়েছেন তিনি সৎকর্ম করেছেন এবং সেটার উপর অটল থেকেই তার মৃত্যু হয়েছে সেক্ষেত্রে আমরা ভুল ধারণা করতে পারি এবং আশা করতে পারি তার মৃত্যুটি ভালো হয়েছে। শুধু বাথরুমের ভিতর মৃত্যুবরণ করেছে বলে খারাপ মৃত্যু বলে বিবেচনা করা যাবে না।

তবে কুরআন সুন্নাহ আমাদেরকে কিছু আলামত এবং নিদর্শন দিয়েছেন যা দেখে আমরা বুঝতে পারি কারো ভাল মৃত্যু হয়েছে নাকি কি খারাপ মৃত্যু হয়েছে। কুরআন-সুন্নাহ আমাদেরকে জানিয়েছে যদি কেউ আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করে তাহলে আমরা বলতে পারি এটি একটা খারাপ মৃত্যু ছিল।ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু।

 

রাসূল বলেন যদি কোন ব্যক্তি তার নিজেকে যে জিনিস দিয়ে আত্মহত্যা করবে কেয়ামতের দিন তাকে সেই জিনিস দিয়েই শাস্তি দেওয়া হবে। তাছাড়া কোন ব্যক্তি যদি কবিরা গুনা করা অবস্থায় মারা যায় সেটি খারাপ মৃত্যু ছিল। যদি কেউ মদ পান করা অবস্থায় মারা যায় কিংবা ব্যভিচার করা অবস্থায় কিংবা কারুর উপর জুলুম অত্যাচার করা অবস্থায় ছিল বা কোনকবিরা গুনাহ করা অবস্থায় যদি মারা যায় সেক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যেতে পারে তার মৃত্যুতে খারাপ ছিল।

যদি কোন ব্যক্তি বাবা-মার সাথে কোন খারাপ আচরণ করে থাকে সেই অবস্থায় যদি সে মারা যায় তাহলে তার মৃত্যুকে খারাপ মৃত্যু বলা যেতে পারে।স্বামী যদি কোন কারণে স্ত্রীর উপর রেগে থাকে সেই অবস্থায় যদি স্ত্রীর মৃত্যু হয় তাহলে তাকে খারাপ মৃত্যু বলা যেতে পারে যদি কোন ব্যক্তির মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ আনন্দ প্রকাশ করে তাহলে ধরে নেয়া যেতে পারে তার মৃত্যুতে মন্দ বা খারাপ ছিল ।কারণ তার অত্যাচার ও জুলুমের হাত থেকে বাঁচার জন্য তার মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ আনন্দ প্রকাশ করে।ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু।

এখন আমরা জানবো কোন ব্যক্তি যদি মারা যায় তাহলে কি ভাবে বুঝবো তার মৃত্যুতে ভালো ছিল, মৃত্যুর সময় যদি কেউ আল্লাহ জিকির করা অবস্থায় বা কে স্মরণ করা অবস্থায়কিংবা শাহাদাত বাণী পাঠ করা অবস্থায় যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে তাহলে তাকে জান্নাতি বা ভালো মৃত্যু বলা যেতে পারে। কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩১১৬ যে ব্যক্তি শেষ বাক্য হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এটা পড়ে যদি কেউ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আমাদেরকে সুসংবাদ দিয়েছেন।

 

তাহলে মৃত্যুর আগে কালিমা পড়ে মৃত্যুবরণ করা এটি একটি ভাল দিক পাশাপাশি বিশ্বাসী ব্যক্তিরা ঈমানদাররা যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তাদের কপাল ঘেমে যায়অর্থাৎ মৃত্যুর পরে মৃত ব্যক্তির কপালে হাত দিয়ে যদি আমরা দেখতে পাই তার কপাল ঘেমে আছে এটা দেখে ধারণা করা যেতে পারে মৃত্যুটা ভালো হয়েছে “কেননা সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৯৮২ বিশ্বাসীরা যখন মারা যায় তখন তাদের কপাল ঘেমে যায় “অনেক আল্লাওয়ালা বা বিশ্বাসীরা মারা যাওয়ার পরে তাদের কপাল ঘেমে ছিল আমরা শুনেছি বা দেখেছি। আবার যদি কেউ জুমার রাতে মারা যায় যদি লোকটা আল্লাওয়ালা ঈমানদার থাকে তাহলে তার এই মৃত্যুকে ভালো বলা যেতে পারে।

 

যদি কেউ জিহাদের ময়দানে শহীদ হয় নিঃসন্দেহে এটি একটি ভাল মৃত্যু ছিল কারণ আল্লাহতালার কাছে সবচাইতে শ্রেষ্ঠ মৃত্যু হচ্ছে শাহাদাতের মৃত্যু ।শহীদের শরীর থেকে ফেটে রক্ত মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ার ফুটাটা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। সুতরাং শাহাদাতের মৃত্যু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মৃত্যু।
ভালো কাজ করা অবস্থায় যদি কারো মৃত্যু ঘটে যেমন কেউ কোরআন তেলোয়াত করতে ছিল কিংবা রোজা মুখে ছিল সে অবস্থায় মৃত্যু হয়েছিল অথবা সিজদায় পড়েছিল এগুলোকে বলা হয় ভালো বিদায় ভাল মৃত্যুর আলামত। ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু।

ব্যভিচার অবস্থায় মৃত্যু।

ড্রেসিং করা মুরগি হালাল না হারাম না মাখরুহ

যেনা করার পর তাকে বিয়ে করলে কি হয়?

ফেসবুকে যুক্ত হউন


আপনার মতামত লিখুন :

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ