fbpx
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

আংটির ভেতর দিয়ে চলে গেল ঢাকাই মসলিন শাড়ি

সুমন আহম্মেদ / ৬৫৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
ঢাকাই মসলিন শাড়ি
ঢাকাই মসলিন শাড়ি

83 / 100

ঢাকাই মসলিন শাড়ি। আংটির ভেতর দিয়ে চলে গেল আস্ত একটি ঢাকাই মসলিন শাড়ি। ঢাকাই মসলিন ফিরিয়ে আনলেন বাংলাদেশের গবেষক এক্সপার্টরা। এর চেয়ে আনন্দের দৃশ্য আর কি হতে পারে।সম্প্রতি ২০২০ সালের ২৮ শে ডিসেম্বর ঢাকাই মসলিনের জিয়াসত‍্যের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। তবে ঢাকাই মসলিনের জিয়াসত‍্যের অনুমোদন পাওয়ার এই পদটি মোটেই মসলিন ছিল না।

সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির ৬ বছরের চেষ্টা আর গবেষণায় ১৭০ বছর পরে বাংলাদেশে আবার বুনা হলো সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন শাড়ি। মাসলিনের কথা উঠলে তার সাথে অনেক গল্প সামনে আসে। অনেকে বলে থাকেন যে একটি মুসলিনের একটা শাড়িকে একটা দিয়াশলাই এর বাক্সে রাখা সম্ভব। মসলিনের কাপড়ের সূক্ষ্মতা এবং হালকা আরামদায়ক ভাব নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এই মাসলিন বিলুপ্ত হয়েছে আজ থেকে অন্তত ৩০০ বছর আগে।

ঢাকাই মসলিন শাড়ি

২০১৪ সালের অক্টোবরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্ষণের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মসলিনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার কথা বলেন। বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায় মাসলিন সুতা তৈরি হতো তা জেনে সেই প্রযুক্তি উদ্ধারের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।ঢাকাই মসলিন শাড়ি।

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান কে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। পরে গবেষণা কাজের স্বার্থে আরো সাত জন সদস্যকে এই কমিটিতে যুক্ত করা হয়। আর এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মাসলিন সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।

 

কাজের শুরুতে মসলিন কাপড় ঢাকাই মসলিন শাড়ি বা তুলার কোন নমুনায় গবেষকদের কাছে ছিল না। আর ঢাকাই মসলিনের তুলাগাছ ঠিক কোনটা কোথায় সে গাছের বীজ পাওয়া যাবে কিভাবে তুলা থেকে সুতা হবে সাথে কিভাবে বুনতে হবে সেই স্কিল কাদের আছে কোনরকম তথ্যই শুরুতে ছিল না। এক্সপার্টরা ঘাটাঘাটি করে তুলা গাছের একটি স্কেচ তৈরি করলেন। সেস্কেস প্রচার করা হবে টেলিভিশন,পত্রিকায়।

যদি বন‍্য অবস্থায় হলেও তোলা কাজটি খুঁজে পাওয়া যায়। কাপাসিয়ায় এক ভদ্রলোক জানালেন এরকম গাছ আছে ওখানে গবেষকরা নমুনা আনলেন কিন্তু এটাই যে ঠিক গাছ নিশ্চিত কিভাবে? অরিজিনাল ঢাকাই মসলিনের সেম্পল ত হাতের কাছে নাই। বহু যন্ত্রণার লানডেনের মিউজিয়াম থেকে নমুনা আনা হলো ডিএনএ তুলনা করে নিশ্চিত হওয়া গেল এটাই ঠিক গাছ। এই গাছ চাষ ও করা হলো রাজশাহীতে।

ঢাকাই মসলিন শাড়ি

ঢাকাই মসলিন শাড়ি

কিন্তু নতুন সমস্যা দেখা দিল তোলা থেকে সুতা হবে কি করে?

এরপর কুমিল্লায় কারিগর পাওয়া গেল যারা ১০ কাউন্টের মোটা সুতো তৈরি করেন অথচ মসলিন কাপরের জন্য দরকার ৫০০ কাউন্টের সুতা। সেই সুতো তৈরি করতে তিন আঙ্গুলের কারিশমার প্রয়োজন। আর আঙ্গুল হতে হবে একেবারে নমনীয়। তাহলে কিভাবে তিন আঙ্গুলে তোলা ছাড়তে হবে সেটাই আবিষ্কার করতে হয়েছে। আর নারীদের আঙ্গুল এই সুতা সবচেয়ে মিহি হয়। তাই তিনটি আঙুল কে প্রয়োজনীয় মাত্রায় নরম রাখতে হয়। প্রথমে তাদের আঙ্গুল গুলো শক্ত ছিল,অনুভূতি ছিল না। টিটমেন্ট করে তাদের আঙ্গুলের নরম করতে হয়েছে। তিনটি আঙ্গুলে রাতে লৌশন লাগিয়ে রেখে সকালে সুতা কাটা হত। আর সব সময় আঙ্গুল তিনটি জত্ন নিতে হয়েছে।ঢাকাই মসলিন শাড়ি।

 

এভাবে ধীরে ধীরে একটি দল দাঁড়িয়ে গেল যারা ৩০০ কাউন্টের সুতা তৈরি করতে পারছেন। একেবারে হয়তো মিলল না কিন্তু কিছু ত এগোলো।

তবে এবার শাড়ি বুনবেদ কিভাবে?তাই এক্সপার্ট তাঁতি খুঁজে বের করা হলো। আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য মাটির গর্তে তাঁত বসানো হলো। সুতা বারবার ছিড়ে যাওয়া রোধ করার জন্য বালতিতে পানি রেখেও কাজ করা হলো। তার পর অবশেষে তৈরি হলো মাসলিনের শাড়ি।

 

প্রথমাবস্থায় শাড়িটি তৈরিতে খরচ পরেছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর গবেষকদের প্রত্যাশা এই খরচ আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। ইতিমধ্যে তারা মোট ৬ টি শাড়ি তৈরি করেছেন। একটি শাড়ি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবেও দেয়া হয়েছে।

আর এই প্রকল্পের পরিচালক আয়ুব আলী আশা করছেন আগামী দুই বছরের মধ্যে মাসলিন কাপড় সর্বসাধারণের জন্য বাজারে আনা সম্ভব হতে পারে।

এই প্রকল্পের মোট করা হয়েছিল ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। ৬ বছরের ব্যাপক ঘোরাঘুরি কলকাতা,লনডন করেও খরচ হয়েছে সোয়া চার কোটি টাকার মতো। বরাদ্দের অবশিষ্ট প্রায় সত্তর শতাংশ টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

কেরানীগঞ্জে পাটের তৈরি জুতা যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকায়।

গ্রামের নাম ইউটিউব।ইউটিউব পাল্টে দিয়েছে গ্রামের নাম।কী করে ইউটিউব পাল্টে দিচ্ছে এই গ্রামকে।

ফেসবুকে যুক্ত হউন


আপনার মতামত লিখুন :

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ