fbpx
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

ইয়াজুজ মা’জুজ বৃত্তান্ত

রিপোটারের নাম / ১৪০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ইয়াজুজ মাজুজ বৃত্তান্ত

59 / 100

ইয়াজুজ মাজুজ বা গগ মেগগ এক মহা ফেতনা, মহা আতঙ্কের নাম। হাদিসে এসেছে দুনিয়াতে ফেতনা, ফাসাদ, অনাচার, ব্যাভীচার হেন কোন অপকর্ম নেই যা তার করবে না। প্রায় সব ধর্মের কাছেই এরা এক মহা আতঙ্ক। বস্তুত আজকের দিনের পৃথিবীর যে সমর সজ্জা, রনসাজ তার মূলে রয়েছে এই ইয়াজুজ মাজুজ আতঙ্ক। প্রায় সব ধর্মেই এব্যাপের সতর্ক বাণী রয়েছে। খৃষ্ট এবং ইহুদী ধর্মের মতে শেষ জামানায় বা End Time এ গগ মেগগ দুই তৃতীয়াংশ র্খষ্টান বা ইহুদীকে হত্যা করবে। এটা তাদের অস্বিত্বের প্রশ্ন তাই এই জাতিকে মোকাবেলা করতেই তাদের আজকের সমর সজ্জা। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তারা তৈরী করছে ভয়ঙ্কর সব মরনাশ্র। এমনকি হিন্দু ধর্মেও এব্যাপারে ইঙ্গিত আছে। কলি কালে অসুরের দল ভাল লোকদের নিদারুন কষ্ট দিবে। ভাল মানুষদের হত্যা করবে। অবশেষে এক অবতার আসবে যার নাম কল্কি। হিন্দুরা সেই কল্কির অবতারের অপেক্ষায় আছে। এখানে বলে রাখা ভাল হিন্দু ধর্ম মূলত কোন ধর্ম নয়। এটা দখলদার আর্য্যদের শোষনের নিমিত্তে চাপিয়ে দেয়া এক জীবনাচার, যা কিছুদিন আগে মোদি নিজেই স্বীকার করেছে। তাইতো বলদ হল তাদের গোমাতা। কারণ এই বলদ ছিল তখনকার অর্থনীতি মূর চালিকা শক্তি। হাল চাষ, পরিবহন সব কাজে এর ব্যাপক ব্যাবহার ছিল। তবে তাদের কিছু বিশ্বাস হারিয়ে যাওয়া বা বিকৃত হওয়া কোন প্রচীন ধর্মের হতে পারে।

যাহোক বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বস অনুযায়ী এদের হাতেই পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ নিশ্চিন্ন হবে, শুধু অল্প কিছু লোক ছাড়া, মাহান আল্লাহ যাঁদের তাঁর আপন কুদরতে হেফাজত করবেন। বস্তত ঈশা আঃ এর হাতে দাজ্জাল হত্যার পর পৃথিবীতে দুটি দল থাকবে। একটি দল ইয়াজুজ মাজুজের, অন্যটি ঈশা আঃ এর নেতৃত্বে মুসলমানদের ছোট্ট একটি দল। আল্লাহপাক ইয়াজুজ মাজুজের গোষ্ঠী ও তার সমর্থকদের গজব নাজিলের মাধ্যমে শেষ করে দিবেন। অবশিষ্ট থাকবে ঈশা আঃ এর নেতৃত্বে মুসলমানগন। এ প্রকৃয়ায় সমগ্র পৃথীবিতে মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব তথা পুর্ণাঙ্গ দীন কায়েম হবে। আল্লাহপাক রাসুল সাঃ এর মাধ্যমে যে বিপ্লবের সূচনা করেছেন এই প্রকৃয়ায় তার সফল বাস্তবায়ন হবে। সারা পৃথিবীতে দ্বীন হিসেবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে। চন্দ্র সূর্যের আলো যেখানে পতিত হয়, সেখানে আল্লাহ’র আইন বাস্তবায়িত হবে।

বর্তমান পৃথিবীকে আমরা কতগুলো ব্লকে ভাগ করতে পারি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্লকগুলো হলো- ১। মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্য ২। অর্থডক্স খ্রিষ্টান অধ্যুষিত রাশান ব্লক। ৩। ক্যাথলিক খ্রিষ্টান অধ্যুষিত ইউরোপ আমেরিকা ৪। এথেয়িস্ট বা নাস্তিক (কিছুটা বৌদ্ধ প্রবাবিত) চীন জাপান ও তৎসংলগ্ন এলাকা। ৫। হিন্দু অধ্যুষিত ভারত ও ৬। একমাত্র ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল।

এই সব ব্লকগুলি আবার দুটি পোলে বিভক্ত। ১। কমিউন্ষ্টি ২। ক্যাপিটালিষ্ট।

মজার ব্যাপার হলো দুনিয়াতে এরকম লোক খুব কম পাওয়া যাবে যারা এই ইয়াজুজ মাজুজ বা গগ মেগগ বা অসুর আতন্কে ভোগে নাই। এর একটি কারন ধর্মীয়। সব ধর্মেই এব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যটি রাজনৈতিক। যখনি কোন শক্তি অন্য কোন শক্তির বিরুদ্ধে বিপুল বিক্রমে আগ্রাসন বা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, তখনই পতিপক্ষ সাধারন মানুষকে যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট করার জন্য গগ মেগগ বা ইয়াজুজ মাজুজ থিওরি সামনে এনছে। একারণে ইতিহাসে অনেকবার এই গগ মেগগ এসেছে। কিছুদিন পর তারাই স্বীকার করেছে এরা সেই মহাধ্বংসকারী গগ মেগগ নয়।

যেহেতু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে পতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এই টার্মটি ব্যবহার হয়েছে তাই আগেকার ধর্মগুলিতে এই বিষয়টি ব্যপক বিকৃত হয়ে কাল্পনিক উদ্ভট রপকথায় রুপান্তরিত হয়েছে। বিশেষত খ্রিষ্টান ও ইহুদী ধর্মে। ইসলামেও ঐসব বিকৃত রুপকথাকে অনেকে ইয়াজুজ মাজুজের বিষয় ব্যাখ্যা করতে ব্যাবহার করেছন। অর্থাৎ ইহুদী খ্রিষ্টানদের থেকে ধার করেছন। এতে মানুষের মধ্যে এবিষয়ে চরম অজ্ঞতা ‍ও বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে। তৈরী হয়েছে এমন সব উদ্ভট কল্পকথার, যার কোরআন হাদিস বিত্তিক কোন দলীল নাই। অনেক বড় বড় আলেম যুগের পর যুগ সেগুলো নকল করে এই সর্বনাশকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন।

মানবতা আজ এক মহা ধ্বংসের সম্মুখীন। আমেরিকা এটম বোম বানাচ্ছে। কারণ তারা গগ মেগগ রাশিয়া থেকে বাঁচতে চায়। রাশিয়াও আমেরিকান জোটকে মোকাবেলায় তৈরী করে চলেছে মারাত্বক সব মরনাশ্র। ইন্ডিয়া মনে করে, মুসলমান ও চাইনিজরাই সেই অসুরের দল। একে মোকাবেলায় চাই সর্বশক্তি নিয়োগ।পৃথিবীতে অশ্র প্রতিযোগিতার মূলে সুক্ষ কাজ করেছে এই গগ মেগগ আতঙ্ক।

গগ মেগগ বা ইয়াজুজ মাজুজকে সনাক্ত করতে ব্যাপক গবেষনা হয়েছে। তৈরী হয়েছে অসংখ্য ফিল্ম, ডকুমেন্টরী। কিন্তু সবই সেই বিকৃত উদ্ভট কল্পকথা নির্ভর। কিন্তু যাদের কাছে আছে সেই অমূল্য রত্ন, এব্যাপারে সঠিক অবিকৃত আসমানী জ্ঞান, যা মানুষকে এই মহাবিপদ থেকে বাঁচাতে আল্লাহ্ কোরআনে এবং হাদিসের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন আমরা সেই মহা মূল্যবান জ্ঞান নিয়ে ঘুমিয়ে আছি। যা কিছু ব্যখ্যা বিশ্লেষন করেছি তাও ইহুদী নাসারাদের থেকে ধার করা কল্পকথা। অথচ আল্লাহ্ সুবঃ ইয়াজুজ মাজুজ সম্পর্কে আয়াত নাজিল শেষে বলেছেন “ তারা হল সে সব লোক যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শন ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎকে অমান্য করে। যার ফলে তাদের যাবতীয় ‘আমাল নিস্ফল হয়ে গেছে। কিয়ামাতের দিন আমি তাদের (কাজের) জন্য কোন ওজন কায়িম করব না” সুরা কাহাফ, আয়াত-১০৫। কিন্তু আমরা আল্লাহ পাকের এই সব নির্দশন নিয়ে মোটেই চিন্তা করছি না।

আল্লাহপাক মানব জাতিকে এই মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচতে ইয়াজুজ মাজুজকে সুষ্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত করেছেন। আমরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই মহা বিপর্যয় সৃষ্টিকারী জাতির লোকেশন সনাক্ত করার চেষ্টা করবো।

আগামী পর্বগুলোতে আমরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে এদের প্রকৃত অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো।

আমরা দেখবো সেখান থেকে একদল লোক ইতি মধ্যেই বেরিয়ে গেছে।

দেখবো তারা কিভাবে বর্তমান দুনিয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রন কায়েম করেছে।

আমরা দেখবো কিভাবে সুদ এবং ফিয়াট মানির মধ্যেমে এই গোষ্টি সারা দুনিয়ার সম্পদ লুট করেছে।

আমরা দেখবো কিভাবে তারা জেনা ব্যবিচারকে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে দিয়েছে। দুনিয়ার কম ঘরই তাদের পর্ণের থাবা থেকে বেঁচে আছে।

আমরা দেখবো কিভাবে তারা সারা দুনিয়ায় নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে।

আমরা দেখবো কিভাবে তারা সারা দুনিয়ায় মানুষ বিশেষত শিশু বলি দিয়ে শয়তানের পুজা চালু করছে।

আমরা দেখবো কিভাবে তারা ২০২১ সালের মধ্যে ৭০০ কোটি মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

আমরা দেখবো কিভাবে তারা আমাদেরকে হত্যা করার জন্য টিকা, খাদ্য, ঔষধ ও কেমিট্রায়ালের (বাতাসে কেমিকেল ছিটানো) মাধ্যমে যুগের পর যুগ স্লো পয়জনিং করছে।

ইসলামের প্রথম যুগে ইয়াজুজ মাজুজের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হতো এবং এব্যাপারে অনেক গবেষনাও হয়েছে। পরবর্তিতে এনিয়ে তেমন কেউ মাতা ঘামায়নি। চালু হয়েছে অনেক ভিত্তিহীন কল্পকথা। চাপা পড়ে গেছে আসল বিষয়। দুনিয়ার মানুষের জন্য ডেকে এনছে মহা সর্বনাশ, মহা দুর্যোগ। ১০০ শত কোটির উপরে মানুষ এপর্য্যন্ত নিহত হয়েছে এদের হাতে। সারা দুনিয়া ভরে গেছে এদের সৃষ্ট পাপাচারে। ভুয়া কাগজের মুদ্রা বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে দুনিয়ার সব সম্পদ। ২০২১ সালের মধ্যেই তারা ৭০০ শত কোটি মানুষকে হত্যা করতে চায়। প্রকল্পের নাম দিয়েছে ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান; সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল। পৃথিবীর টোটাল সাপ্লাই চেইন তারাই মেনটেইন করে। অর্থাৎ আমাদের খাদ্য, ঔষধ, পানীয়, নিত্য ব্যাবহারের পণ্য সবই হয় তারা সরাসরি নাহয় তার মূল উপাদান সরবরাহ করে। আর এগুলোর মধ্যে মিশিয়ে দেয় মারাত্বক বিষ। এভাবে তারা পরিকল্পনা মতো সারা বিশ্বের মানুষকে স্লো পয়জনিং করে চলেছে। টিকার মাধ্যমে প্রত্যেকের শরীরে ঢুকিয়ে দিয়েছ টাইম বোম্ব। টার্গেট ২০২১। পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে নাকি ৫০ কোটি পছন্দের লোক রেখে আর সবাইকে মেরে ফেলতে হবে। বিশেষত যারা ধার্মিক, মুসলিম। আমরা সবাই স্লো পয়জনিং হয়ে চলেছি গাঁটের টাকা খরচ করে। এদেরকে চিনতে, এদের হাত থেকে বাঁচতে লিখাটি শেষ পর্ব পর্য্যন্ত পড়ুন, যতো সম্ভব শেয়ার করুন।

ইসলামের প্রথম যুগে ইয়াজুজ মাজুজ সম্পর্কে গবেষনাঃ
ইবনে জারীর তাবারী রহঃ এবং ইবনে কাছীর রাঃ ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করেন এবং ইয়কুত আল হামাবী তাঁর মুজাম উল বুলদানে লিখেন যে, ৬৪৩ খ্রিঃ আজারবাইযান দখলের পর ওমর রাঃ সুরাকা বিন আমর রাঃ কে ডারবেন্ট অভিমুখে অভিযানে পাঠান। পরবর্তিতে আব্দুর রাহমান বিন রাবী রাঃ কে প্রধান করে অগ্রবর্তী একটি দলও পাঠান। আব্দুর রহমান বিন রাবী রাঃ যখন আরমেনিয় পৌঁছেন তখন আর্মেনিয়ার শাসক শেরবাজ বিনা যুদ্ধে আত্নসমর্পন করে। অতপর তিনি ডারবেন্ট অভিমুখে যেতে চাইলে শেরবাজ জানান যে তিনি একটি লোক দ্বারা যুলকারনাই কতৃক দেয়া বাঁধের বিস্তরিত সব তথ্য আগেই সংগ্রহ করে রেখেছেন। শেরবাজ তাকে আব্দুর রহমান রাঃ সামনে উপস্থিত করেন, কারণ সে দেয়াল সম্পর্কে সব জরুরী তথ্য জানত। (তাবারী, খন্ড- ০৩, পৃ- ২৩৫-২৩৯; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খন্ড-৭ পৃ- ১২২-১২৫ এবং আল মুজাম উল বুলদান, বাব-উল-আবওয়াব: ডারবেন্ট)

এর প্রায় দুইশ বছর পর আব্বাসীয় খলিফা আল ওয়াতিখ সালাম উল তারযুমান এর অধীনে ৫০ জনের একটি গবেষক দল পাঠান যুলকারনাইনের দেয়াল গবেষনায়। গবেষনাটি বিস্তরিত ভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে মুজাম উল বুলদান ও আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’তে। তাঁরা লিখেন, তাঁরা সামারাহ থেকে তিবলিসি, তারপর আস সারির এবং আল-লান, এরপর তারা ফিলানশাহ হয়ে কাস্পিয়ান এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখান থেকে তাঁরা ডারবেন্ট পৌঁছে ওয়াল দেখতে পান। (Al-Bidayah Vol. II, p. 111, Vol. VII, pp. 122–125; Mu jam-ul-Buldan: under Bab-ul-Abwab). এটা সুষ্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, দশম শতাব্দী পর্য্যন্তও মুসলিম বিশেষজ্ঞরা ককেশাশের এই দেয়ালটিকেই জুলকারনাইনের দেয়াল মনে করতেন।

ইয়াকুত তাঁর মুজাম-উল-বুলদানে আবারও একই মত প্রকাশ করে খাজার (Khazar ‘Caspian’ সম্পর্কে বলেনঃ “এলাকাটি জুলকারনাইনের দেয়াল সংলগ্ন বাব-উল-আবওয়াব (derbent) এর ঠিক পিছনে”। এ ব্যপারে খলিফা আল-মুক্তাদীর রহঃ এর দূত আহমদ বিন ফাদলান কাস্পিয়ান রাজ্য সম্পর্কে একটি বিষদ রিপোর্ট লিখেন। তিনি বলেন কাস্পিয়ান রাজ্যের রাজধানী ইটিল (বর্তমানে আস্ট্রাখানের কাছে)। যে শহরের ভিতর দিয়ে ইটিল নদী প্রবাহিত হয়ে ভলগা নদীতে মিশেছে। মূলত এই ইটিল ও ভলগা নদী এবং দক্ষিনে ককেশাস পর্বত মিলে এলাকাটিকে দুনিয়া অন্য ভূভাগ থেকে আলাদা করেছে।

ইয়াজুজ মাজুজের সন্ধানে:
কোরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ্ পাক ইয়াজুজ মাজুজের সুনিদ্রিষ্ট অবস্থান বর্ণনা করেছেন এবং তারা কখন বের হয়ে আসবে সেটাও সুনিদ্রিষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মহান অল্লাহপাকের সেই নির্দশন না বুঝার কারণে আমরা তাদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছি। কোরআনুল কারীমে আল্লাহপাক দুই জায়গায় ইয়াজুজ মাজুজের বর্ণনা দিয়েছেন। প্রথমতঃ সুরা আল কাহফে তাদের প্রকৃতি ও লোকেশন। দ্বিতীয়তঃ সুরা আম্বিয়ায় তাদের বের হয়ে আসার সময়। এই দুইয়ের সমর্থনে রয়েছে বহু হাদীস।

এখানে বলে রাখি কোরআনুল কারিম কোন গল্প বা ইতিহাসের কিতাব নয়। এখানের প্রতিটি শব্দ মহান আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের জন্য গাইডলাইন হিসেবে পাঠিয়েছেন। কাহিনী, ইতিহাস, উপদেশ বা নীতিমালা প্রভৃতির মাধম্যে মাহান আল্লাহ্ পুরা মানব জাতির জন্য এক অনুপম পথনির্দেশিকা রেখেছেন এই কিতাবে। তাইতো আল্লাহ্ পাক এর শুরুতে বলেন” ইহা ঐ গ্রন্থ যার মধ্যে কোনই সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নেই; মুত্তাকীদের জন্য এ গ্রন্থ পথনির্দেশ বা গাইডলাইন।“ সুরা আল-বাকারা, আয়াত ০২। অর্থাৎ অনেকে অনেক নিয়তে এই কিতাব পড়তে পারেন, কিন্তু একজন মুত্তাকী’র মূল লক্ষ হবে এখান থেকে পথনির্দেশ গ্রহন করা। তাই আল্লাহপাক যখন এখানে আমাদের জুলকারনাইনের কাহিনী বল্লেন তখন সেটা পড়া শুধু নেকী অর্জনের জন্য নয়। নেকী অর্জন মুমীনের জন্য বোনাস। আসল উদ্দেশ্য হলো সেই মহা ধ্বংসকারী ফেতনা সৃষ্টিকারী জাতিকে চেনা। মূলত কোরআনুল কারীম নাজিলের মকসুদতো হলো মানুষের হেদায়াত। তাই যখন আমরা প্রতি শুক্রবার সুরা আল-কাহফের আমলের হাদিস পড়ি, তখন রাসুলুল্লাহ্ এই হাদিসের মকসুদ শুধুই এটা নয় যে পড়ে পড়ে নেকী অর্জন করা, বরং মুল উদ্দেশ্য হলো উম্মত এই সুরার উপর আমলে থাকা এবং এই সুরাতে আল্লাহ্ পাক শেষ জামানায় ফেতনা থেকে বাঁচার যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে অনুযায়ী আমল করে নিজেদের হেফাজত করা। কিন্তু আমাদের কিছু ভাই আমল করলেও এই সুরাতে আল্লাহপাক কি নির্দেশনা দিয়েছেন সে ব্যাপারে কোন চিন্তাই নাই, নাই কোন গবেষনা। যার কারণে আমরা শেষ জামানার এই ফিতনায় ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।

জুলকারনাইন
সুরা কাহাফে আল্লাহপাক জুলকারনাইনের মাধ্যমে ইয়াজুজ মাজুজের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহপাক বলেন”
তারা তোমাকে যুলকারনাইন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে; তুমি বলে দাওঃ আমি তোমাদের নিকট তার বিষয় বর্ণনা করব। আমি তাকে যমীনে কর্তৃত্ব দান করেছিলাম এবং সববিষয়ের উপায়- উপকরণ দান করেছিলাম। সুরা কাহাফ, আয়াত ৮৩.৮৪।
আল্লাহ্পাক এখানে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি জুলকারনাইনকে দুনিয়ার শাসন ক্ষমতা দিয়েছিলেন। সাথে দিয়েছিলেন শাসনের সব উপকরণ। অর্থাৎ তিনি ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ন সুপার পাওয়ার শাসক।

জুলকারনাইনকে ইংরেজীতে অনেকে Alexander The Great II বলে থাকে। মিশরে একটি শহর আছে আলেক্সজান্দ্রিয়া। অনেকে পারস্য সম্রাট Cyrus কে যুলকারনাইন হিসেবে মনে করেন। তো যিনি দুনিয়ার শাসক তাঁর রাজধানী জেরুজালেমই হওয়ার কথা। কারণ আল্লাহপাক এই ভুমিকে পৃথিবীর জন্য রহমত স্বরুপ সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তিনি কোন এলাকা থেকে তাঁর অভিযান শুরু করেছেন তার কোন ইঙ্গিত কোরআনে নেই। অতএব আমরা এবিষয়ে কোন অনুমান করতে যাবনা।

ইয়াজুজ মাজুজের অবস্থান:
সুবহানাল্লাহ। কোরাআনুর কারীমে আল্লাহ পাক ইয়াজুজ মাজুজের নিখুত অবস্থান আমাদের জানিয়েছেন। কারণ এরা পৃথিবীর এক জায়গায়ই আবদ্ধ। জুলকারনাইন একটি বাঁধ দিয়েই তাদের আবদ্ধ করে দেন। অতএব কোরআনে বর্ণিত লোকেশন দুইটা হবে না। হবে একটি। আর এই লোকেশন চেনার যে চিহ্ন গুলি আল্লাহপাক বর্ণনা করেছেন সেগুলোও কেয়ামত পর্য্যন্ত থাকবে কারণ কোরআনুল কারীম নাজিল হয়েছে কিয়ামত পর্য্যন্ত মানবজাতীর জন্য।
যাহোক আমরা এখন যাব সেই লোকেশনের সন্ধানে। সাথে গাইড কোরআনুল কারীম।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,”
একবার সে এক রাস্তা ধরল (অর্থাৎ একদিকে একটা অভিযান পরিচালনা করল)।

অবশেষে যখন সে সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে একটি কর্দমাক্ত পানির ঝর্ণায় ডুবতে দেখতে পেল এবং সে এর কাছে একটি জাতির দেখা পেল। আমি বললাম, ‘হে যুলকারনাইন, তুমি তাদেরকে আযাবও দিতে পার অথবা তাদের ব্যাপারে সদাচরণও করতে পার’। সে বলল, ‘যে ব্যক্তি যুলম করবে, আমি অচিরেই তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তাকে তার রবের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে। তখন তিনি তাকে কঠিন আযাব দেবেন’। ‘আর যে ব্যক্তি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে, তার জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার। আর আমি আমার ব্যবহারে তার সাথে নরম কথা বলব’।

তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।

অবশেষে সে যখন সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছল তখন সে দেখতে পেল, তা এমন এক জাতির উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য আমি সূর্যের বিপরীতে কোন আড়ালের ব্যবস্থা করিনি। প্রকৃত ঘটনা এটাই। আর তার নিকট যা ছিল, আমি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত।

তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।

অবশেষে যখন সে দুই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছল, তখন সেখানে সে এমন এক জাতিকে পেল, যারা তার কথা তেমন একটা বুঝতে পারছিল না।
তারা বলল, ‘হে যুলকারনাইন! নিশ্চয় ইয়া’জূজ ও মা’জূজ যমীনে অশান্তি সৃষ্টি করছে, তাই আমরা কি আপনাকে এ জন্য কিছু খরচ দেব যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটা প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন’?
সে বলল, ‘আমার রব আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, সেটাই উত্তম। সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব’।
আমার কাছে লোহার পাত এনে দাও।’ শেষ পর্যন্ত যখন সে দু’পাহাড়ের মাঝের ফাঁকা জায়গা পুরোপুরি ভরাট করে দিল সে বলল, ‘তোমরা হাপরে দম দিতে থাক।’ শেষ পর্যন্ত যখন তা আগুনের মত লাল হয়ে গেল তখন সে বলল, ‘আনো, আমি এর উপর গলিত তামা ঢেলে দেব।’
এরপর তারা (ইয়া’জূজ ও মা’জূজ) প্রাচীরের উপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারল না এবং নিচ দিয়েও তা ভেদ করতে পারল না।
সে বলল, ‘এটা আমার রবের অনুগ্রহ। অতঃপর যখন আমার রবের ওয়াদাকৃত সময় আসবে তখন তিনি তা মাটির সাথে মিশিয়ে দেবেন। আর আমার রবের ওয়াদা সত্য’। সুরা আল-কাহফ, আয়াত ৮৫ – ৯৮।

শুরুতে আল্লাহপাক বলেন, একবার যুলকারনাইন অভিযানে বের হলেন। যেতে যেতে তিনি এমন এক যায়গায় পৌঁছলেন, তার বৈশিষ্টগুলি নিম্নরুপঃ (৮৬ নং আয়াত অনুসারে)
১। যার পশ্চিম পার্শ্বে বিশাল জলাশয় রয়েছে। অর্থাৎ ভূ-ভাগটি জলাশয়ের পূর্বে অবস্থিত।
২। জলাশয়টি এতই বিশাল যেখানে মনে হয় সূর্য্য ঐ জলাশয়ের মধ্যেই ডুবছে।
৩। সূর্য্য অস্ত যাওয়ার সময় জলাশয়টিকে কর্দমাক্ত বা কালো মনে হয়।
৩। সেখানে ঝর্ণা রয়েছে।
৪। কাছেই একটি জনবসতি ছিল এবং আল্লাহপাক তাদের প্রতি ন্যায়ানুগ আচরনের নির্দেশ দিলেন।
৫। যুলকারনাইন বল্লেন তিনি যালেমদের কঠোর হস্তে দমন করবো আর ‘আর যে ব্যক্তি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে, তার জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার। আর আমি আমার ব্যবহারে তার সাথে নরম কথা বলব’।

যেহেতু এটাই ইয়াজুজ মাজুজকে ট্র্যাক করার প্রথম জায়গা তাই আমরা ধরে নিচ্ছি জায়গাটা কৃষ্ণ সাগরের পুর্ব উপকুল। কারণ এই এলাকার সাথে উপরোক্ত বৈশিষ্ট গুলি মিলে যায়।

প্রথমতঃ লক্ষ্য করন এই জলাশয়টির নামই কৃষ্ণ সাগর।
দুই কারণে।
ক) এর পূর্ব উপকুল থেকে একে কালো বলে মনে হয়।
খ) এই সাগরের উত্তরে ছিল এক পরাক্রমশালী নিশংস জাতি। যারাই ঐদিকে কোন জাহাজ নিয়ে যেত তার আর ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। প্রাচীন কালে এটা ছিল হালের বারমুডা ট্রায়াংগালের মতো। তখনই এর নাম নিষিদ্ধ বা ব্ল্যাক সী হয়ে যায়।

দ্বিতীয়তঃ এর পূর্ব উপকুল ধরে রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত বহু ঝরনা। বাটুমি, রীজ সহ আরো বহু ঝর্ণার কারণে এলাকাটি পর্য্যটনের জন্য বিখ্যাত।

এখান থেকে অনেকে সূর্য্যাস্ত উপভোগ করে। বিখ্যাত সব ঝরনা আর কৃষ্ণ সাগরের কালো জলে সূর্য্য ডোবার দৃশ্য উপভোগ করতে পৃথিবীর অনেক যায়গা থেকে ছুটে আসে লাখ লাখ পর্য্যটক।

যেহেতু আমাদের ধারনা অনুযায়ী তিনি কৃষ্ণ সাগরের পূর্ব পাড়েই এসে থেমে ছিলেন। এতে ধারনা করা যায় তিনি দক্ষিন দিক থেকেই অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। হয়তো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল উত্তরের পরাক্রমশালী জালেম জাতিকে শায়েস্তা করা। যার ইঙ্গিত পাওয়া যায় তাঁর উক্তিতে ‘যে ব্যক্তি যুলম করবে, আমি অচিরেই তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তাকে তার রবের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে। তখন তিনি তাকে কঠিন আযাব দেবেন’। কিন্ত এ উপকুলের উত্তর ভাগে রয়েছে দুর্গম ককেশাশ পর্বত। সঙ্গত কারণে আরো উত্তরে হয়তো তিনি যেতে পারেননি।

যাহোক, তিনি আবার যাত্রা শুরু করলেন। এবার তিনি এমন এক যায়গায় পৌঁছলেন যার বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরুপঃ (আয়াত ৮৮ অনুসারে)
১। এখানে সুর্য্য উদয় হয়। অর্থাৎ এখানেও বিশাল জলাশয় আছে তবে তা ভূ-ভাগের পুবে, যার মধ্য মনে হয় সুর্য্য উদিত হচ্ছে।
২। জায়গাটা এমন যে এখানে সুর্যের আলো থেকে আশ্রয়ের প্রাকৃতিক কোন ব্যবস্থা ছিল না অর্থাৎ কোন গাছপালা ছিলনা। অর্থাৎ রুক্ষ মরুভুমি।
বর্তমানের আজারবাইযানের বাকু মরুভূমির সাথে এর মিল পাওয়া যায়। এর পুবে বিশাল জলাশয় যার আদি নাম সী অব খাজারিয়া। বর্তমানে কস্পিয়ান সী। যদিও এই বাকুর এক অংশে গড়ে উঠেছে আজারবাইযানের রাজধানী। কিন্তু এর পুর্বদিক অর্থাৎ কাস্পিয়ান উপকুল এলাকা এখনো বিশ্বের রুক্ষতম মরুভুমির একটি।

আবার তিনি আরেক পথ ধরলেন। এবার তিনি যেখানে এসে পৌঁছলেন তার বৈশিষ্টগুলি নিম্নরুপঃ
১। যায়গাটি দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত। অর্থাৎ গিরিপথ।
২। এখানে তিনি এক জাতির দেখা পেলেন যাদের কথা তিনি বুঝতেছিলেন না।
৩। তারা তাঁকে বল্ল, গিরিপথের ঐ পাশে ইয়াজুজ মাজুজ থাকে। তারা যমিনে অশান্তি সৃষ্টি করছে।
৪। অধিবাসীরা জুলকারনাইনকে প্রস্তাব করল গিরিপথটা বন্ধ করে দিতে। প্রয়োজনীয় খরচ তারা বহন করবে।
৫। জুলকারনাইন সেখানকার অধিবাসীদের সহায়তায় লোহা ও তামা দ্বারা গিরিপথটি এমন ভাবে বন্ধ করে দিলেন যেন উপর বা নিচ কোন দিক দিয়েই ইয়াজুজ মাজুজ এদিকে আসতে না পারে।
৬। কাজ শেষে তিনি বল্লেন, এটা আল্লাহপাকের অনুগ্রহ এবং যখন তিনি চাইবেন এবাঁধটি নিশ্চিন্ন করে দিবেন। অর্থাৎ এর কোন অস্তিত্ব থাকবে না।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, আল্লাহপাক জুলকারনাইনকে বিশ্ব শাসনের উপায় উপকরন দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এখানে একটি জাতীর দেখা পেলেন যাদের কথা তিনি বুঝতেছিলেননা। একজন মহাজ্ঞানী লোক হিসেবে তাঁর নিজেরই এটা বুঝার কথা ছিল অথবা তাঁর বাহিনীতে এরকম লোক থাকাই স্বাভাবিক যারা অনেক ভাষা জানে। আসলে এখানে লুকিয়ে আছে এক বিশাল রহস্য, যার মাধ্যমে ইয়াজুজ মাজুজকে সনাক্ত করা সহজ হবে।
এ রহস্যের পথ ধরেই জানা যাবে সেই বিখ্যাত বাঁধের অবস্থান।

তাহলে কারা ছিল সেই জাতি যাদের কথা যুলকারনাইন বুঝতেছিলেননা? কি ছিল তাদের ভাষা? কেন যুলকারনাইন সে ভাষা বুঝতেছিলেননা?
এ জাতিটি ছিল প্রাচিন জর্জিয়ান বা Kartvelian জাতি। তাদের ভাষা ছিল Kartvelian languages. বিশ্বের প্রাথমিক ভাষার একটি। কেউ এটিকে একমাত্র ইউনিক ভাষাও বলে থাকেন। সাধারনত একটি ভাষার সাথে অন্য ভাষা গুলোর কিছু কিছু মিল থাকে। কিন্তু এই ভাষাটি ব্যাতিক্রম। যেহেতু এর ডায়ালেক্টের সাথে আশে পাশের ভাষা গুলোর মিল ছিল না তাই যুলকারনাইন এই ভাষাটি বুঝতে পারেননি।

তহলে কোন সেই গিরিপথ?
ককেশাসের দক্ষিনে পাহাড়ের পাদদেশে ছিল জর্জিয়ান রাজ্য। ককেশাসের এক প্রান্ত কৃষ্ণ সাগেরে এবং অন্য প্রান্ত মিলেছে কাস্পিয়ান সাগরে। এই বিশাল এলাকায় উত্তরে দক্ষিণে যাতায়াতের জন্য ছিল মাত্র দুটি গিরিপথ। একটি বিশ্বখ্যাত ডারিয়াল পাস (dariel pass or dariel gorge. অন্যটি derbent. এই দুই গিরি পথের একটি যুলকারনাইন বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেন। অত্যন্ত বিপদ সংকুল হওয়ার কারণে অতি প্রাচিনকালে এ পথটি ব্যাবহার হতো না।

The name Darial originates from Dar-e Alan (در الان) meaning Gate of the Alans in Persian. Derbent মানে closed gate.

নিচের কমেন্টর চিত্রে বাটুমি থেকে ব্ল্যাক সী সুর্যাস্ত দেখানো হয়েছে অপর চিত্রে যুলকারনাইনের অভিযানের সম্ভাব্য গতিপথ দেখানো হয়েছে। ধারনা করা হয়েছে অভিযানের প্রথমেই তিনি কৃষ্ণ সাগরের পুর্ব উপকুলে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি কাস্পিয়ান সাগরের পশ্চিম উপকুল বাকু মরুভূমিতে এসে পৌছান। সেখান থেকে আবার তিনি যাত্রা শুরু করেন। এপর্যায়ে তিনি হয় ডারিয়াল পাস নাহয় ডারবেন্ট এসে পৌছান এবং বাঁধ দিয়ে ইয়াজুজ মাজুজকে আটকে দেন।

তো লক্ষ্য করেছেন, একটি বিষয় এখনো অমিমাংশিত। সেটা হলো গিরি পথের। আসুন আমরা নিশ্চিত হই কোন গিরি পথ সেটি। এখানে দুটি গিরি পথ আছে।
১। ডারিয়াল পাস
২। ডারবেন্ট।
ইসলামের প্রথম যুগের বিশেষজ্ঞগন ডারবেন্টকেই সেই জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ সেখানে একটি দেয়াল আছে। ডারবেন্ট মনেই হলো যে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
কিন্তু কিছু কারণে ডারবেন্ট সেই জায়গা হওয়ার সম্বাবনা কম।
১। আল্লাহ পাক বলেন “তারা দুই পাহাড়ের মাঝে এসে উপস্থিত হলো’। ডারবেন্ট হলো ককেশাস পর্বতমালা সর্ব পুবে, এক পাশে।
২। দেয়ালটি তৈরী হয়েছিল লোহা ও তামা দ্বারা। কিন্ত ডারবেন্টের দেয়ালে অন্য সাধারন উপাদান ও আছে।
২। অতি প্রাচিন কালে ডারবেন্টের গিরিপথটি ব্যাবহার উপযোগি ছিলনা। এটি ছিল বিপদসংকুল এক গিরিপথ।
৩। তাছাড়া প্রাচিন জর্জিয়ান বা Kartvelian জাতিটি ঐ জায়গায় বাস করতো না। এটি পড়েছে সাবেক আলবেনিয়া এলাকায়। তাহলে ডারিয়াল পাস’ই কি সেই জায়গা? হ্যাঁ এই জায়গাটি উপরের শর্তগুলি পুরন করে। এই গিরি পথটি কাকেশাস পর্বতমালাকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। অতি প্রাচিন কাল থেকে ককেশাসের উত্তর থেকে দক্ষিনে যাতায়াতের এটিই ছিল একমাত্র পথ। এটা ছিল প্রাচিন জর্জিয়ান বা Kartvelian জাতির বসবাসের এলাকার পুর্বভাগ। যে জাতির কথা যুলকারনাইন বুঝতে পারছিলেননা।

তাহলে কোথায় সেই বাঁধ? কারণ ডারিয়াল পাসটি এখন বিশ্বে বহুল ব্যাবহারিত পথের একটি। মনে পড়ে যুলকারনাইনের সেই উক্তি “এটি মাহান আল্লাহপাকের অনুগ্রহ। যখন তিনি চাইবেন এটিকে নিশ্চিন্ন করে দিবেন”। তবে কি আল্লাহ এটিকে নিশ্চিন্ন করে দিয়েছেন? তবে কি ইয়াজুজ মাজুজ যমিনে ছড়িয়ে পড়েছে? নাকি এখনও আবিষ্কারই হয়নি সেই বাঁধ? ডারিয়াল পাস বা গর্জ এলাকায় এমন কিছু আলামত আছে তাতে ধারনা করা হয় এখানে এক কালে সেই বাঁধ ছিল। উত্তর এবং দক্ষিনের জনপদকে আলাদা করতে এটাই সব চেয়ে উপযুক্ত যায়গা। এখানে দু পাশে পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১৮০০ মিঃ বা ৫৯০০ ফিট। ভবিষ্যতে আল মালহামায় উত্তরের কুফর স্থল বাহিনীকে আটকে দেয়ারও মোক্ষম জায়গা এটি।
কোরআনুল কারীমের তথ্য অনুযায়ী ইয়াজুজ মাজুজ বেরিয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়। পুরা দুনিয়ার নিয়ন্ত্রনও এখন তাদের হাতে। শুধু তারাই দুনিয়াতে থাকতে চায়। তারা মনে করে দুনিয়াকে তাদের বাসের উপযোগি রাখতে হলে সাত শত কোটি লোককে মেরে ফেলতে হবে (ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ব অনুযায়ী)। বিশেষ করে মুসলিম, প্রকৃত খ্রিষ্টান প্রকৃত ইহুদীদের। অবশ্য এরাই প্রকৃত ইহুদী নিধন করে দ্বিতীয় বিশ্ব যদ্ধের সময় হিটলারকে দিয়ে। সেই কাহিনী আরো পরে। আর এজন্যই ভিশন ২০২১, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল, জলবায়ু সম্মেলন, ধরিত্রি সম্মেলন। এপরিকল্পনায় তারা ৯৫% সফল। বিভিন্ন দেশে যারা এ ক্ষেত্রে ভাল অবদান রাখতে পেরেছে তাদেরকে তারা পুরষ্কৃতও করেছে। যে দেশের রাজধানী দুনিয়ার নিকৃষ্ট, যে দেশের রাজধানীর ৮০% লোক সকালে মনুষ্য বর্জ্য মিশ্রিত নর্দমার থকথকে ময়লা ও তাতে ভেসে থাকা ব্যবহৃত পটকা মাড়িয়ে দিনের কাজ শুরু করে, যারা বিশ্বের জন্য আশির্বাদ সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দিবে সে দেশের প্রধান হয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান। কিসে চ্যাম্পিয়ান? পরিবেশে? না অন্য কিছুতে? আকল্ মান্দ কে লিয়ে ইশারাই কাফি হ্যায়।

ককেশাস অঞ্চলের বর্তমান অবস্থাঃ
যে এলাকাটি নিয়ে এতো গবেষনা, এতো কৌতুহল সেটি বিশ্বের উন্নত অঞ্চলের একটি। ককেশাসের দক্ষিনের দেশ গুলো হলো তুরস্কের উত্তর ভাগ, জর্জিয়া, আরমেনিয়া, আজারবাইযান ও দাগেস্থান রিপাবলিক। খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ এ এলাকাটিতে কতই না জরিফ, অনুসন্ধান হয়। কিন্তু পাওয়া যায়নি সেই নিখাদ লোহা ও তামার তৈরী মহা প্রাচির। কিন্তু কেন?

খাজার, সম্ভাব্য সেই ইয়াজুজ মাজুজ জাতিঃ
ককেশোসের উত্তরে বর্তমান রাশিয়া। আমেরিকা এদেরকেই গগ মেগগ বলে প্রচার করে। তবে আমাদের বিষয় হলো আতি প্রাচিনের, যুলকারনাইনের সময়ের। সে সময় এ এলাকায় যে জাতিটি বাস করতো ইতিহাসে তারা এক রহস্যময় জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তারা হলো খাজার। ইতিহাসবিদগন এদের বলেছেন “কন্সিল নেশন অব দ্যা ওয়াল্ড” পৃথিবীর গুপ্ত জাতি।” দুর্ধর্ষ এক বর্বর জাতি এরা। ইসলামের প্রথম যুগে মুসলিম মনিষিগন এদেরকেই ইয়াজুজ মাজুজ বলে চিহ্নিত করেছেন। ১০০০ সালের পরে এসে এ ধারনা স্তিমিত হয়ে যায়। দৃষ্টি যায় মঙ্গলদের দিকে। ১২৫০ সালের দিকে মঙ্গলরা ভয়াবহ মুসলিম হত্যাকান্ডে মেতে উঠলে এক দল লোক মঙ্গলদেরকে ইয়াজুজ মাজুজ বলা শুরু করে। কাউকে ইয়াজুজ মাজুজ বলতে হলে অবশ্যই কোরআন ও হাদিসের নিদর্শন সমূহ পুরণ করতে হবে। আমরা দেখেছি খাজার জাতি সেই শর্তগুলো পুরন করে। অন্যরা নয়।
অবশ্য আমরা দেখবো দুনিয়া ধ্বংসকারী বর্তমানের ভুয়া ইহুদী, মঙ্গল, হালের চীনারা (হান) এবং ভারতবর্ষ দখল করে হিন্দু ধর্ম চাপিয়ে দেয়া আর্য্যরা সব একই রক্তের। এদের বর্বরতা থেকে বাঁচতে তৈরী হয়েছিল চীনের মহা প্রাচীর সহ আরো অনেক প্রাচীর। যেহেতু চীন তারাই দখল করে আছে তাই এই মহা প্রচীরের ইতিহাস তারা লুকায়। চীনের জনগন জানেনা এই মহা প্রাচীরের প্রকৃত ইতিহাস। ধারনা করা হয় এই সব প্রাচীর আল্লাহপাকের অনুগ্রহ প্রাপ্ত যুলকারনাইন’ই তৈরী করেছেন বর্বর এই জাতি থেকে অন্যদের বাঁচানোর জন্য। তবে শেষ জামানায় মনুষের হেফাজতের জন্য যেহেতু ককেশাসের ঐ বাঁধটি এবং তৎসংলগ্ন জনপদটি গুরুত্বপূর্ণ তাই আল্লাহপাক নিদ্রিষ্ট করে তাদেরকে চিহ্নিত করে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন।

‘আর্য’, ভারতে ভিনদেশী আগ্রাসী শক্তি যাদের মূল সেই খাজারঃ
”India was invaded and conquered by nomadic light-skinned Indo-European tribes from Central Asia around 1500-100 BC, who overthrew an earlier and more advanced dark-skinned Dravidian civilization from which they took most of what later became Hindu culture. This so-called pre-Aryan civilization is said to be evidenced by the large urban ruins of what has been called the “Indus valley culture” (as most of its initial sites were on the Indus river). ”

মনে পড়ে লতার সেই গান “ রাধা কিঁউ গৌরি, মেঁ কিঁউ কালা”। ওহ্, সব দেব দেবীই তো সাদা। শুধু কালী ছাড়া। লম্বা, সাদা ভারতীয়রা? এরা এদেশীয় নয়। এরা ককেশীয়। ইয়াজুজ মাজুজের পূর্বপুরুষ ও এদের পুর্বপুরুষ এক। । মনে পড়ে কুরু ক্ষেত্রের যুদ্ধের কথা? রাম রাবনের যুদ্ধ? রাবন কিন্তু এদেশীয় ছিল। দেশ প্রেমিক যোদ্ধা। দ্রাবিড়দের (ডার্ক স্কীন) রক্তে সেদিন গঙ্গা যমুনা ভেসে সাগর পর্য্যন্ত লাল হয়ে গিয়েছিল। সিন্দু নদের পানি পরিবর্তিত হয়ে গিয়ছিল। দেশপ্রেমিক হিন্দের যোদ্ধারা বিপূল বিক্রমে লড়েছিল হানাদার রামের বাহীনির বিরুদ্ধে। কিন্ত তারা হেরে গেছে। রাম একাই নাকি ১৬ লক্ষ হিন্দের নারীকে রক্ষিতা করেছিল, যারা ছিল আমাদেরই পূর্ব পুরুষের মা বোন।

(সে পরিস্থিতি এখন আবার তৈরী হয়েছে। এবার তাদেরই উত্তরসুরী গো-পুত্রদের দ্বারা। টার্গেট মুসলিমরা।)

এর পর তারা শাসন ও শোষনের সুবিধার্থে চালু করে এমন সব নিয়মনীতি যাতে দ্রবিড়দেরকে অবাধে শোষন করা যায়। তাদের নারীদের অবাধে ভোগ করা যায়। যার জন্য তাদের ধর্ম গ্রন্থ গুলি চরম নোংরা অশ্লিলতায় পূর্ণ। বন্ধ করে দেয় গরু খাওয়া। বলে গরু তোদের মা। ষাঁড়, বলদ মা হলোও কিন্তু যে ছাগল এবং মহিষ দুধ দেয় সেটা মা হলো না। কারণ ছাগল চাষে বা পরিবহনে লাগে না। আর মহিষের এখানে তেমন লালন হতো না। আসলে গরু ছিল তখন কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির চালিকা শক্তি। যুদ্ধে চরম ভাবে পরাজিত, শতশত বছরের লাঞ্চিত হতভাগ্য এ দ্রাবিড় জাতির এসব কানুন মেনে নেয়া ছাড়া কোন গতি ছিলনা। সাদাদের সাথে কালোদের রক্ত যেন মিশে একত্রিত, অপবিত্র না হয়, নিম্ন জাত বলে যথেচ্ছা ব্যবহার করা যায় সে জন্য চালু করে দিল বর্ণ প্রথা। বন্ধ করে দিল অসম বর্ণ বিয়ে।

মোঙ্গল, চৈনিক হান (HUNS) একই রক্তের নিশংস জাতিঃ
এই রেইসটি বিস্তৃতি লাভ করেছে মঙ্গোলিয়া হয়ে চীন পর্য্যন্ত। মনে আছে ১২শ শতকে চেঙ্গিস খান হালাকু খানের কথা? কি নির্মম হত্যাষজ্ঞই না তারা চালিয়েছে মুসলিম বিশ্বে। তারা মুসলিম নারী শিশুকে শুধু হত্যা করেনি, তাদের পালিত পশু গুলিকেও হত্যা করেছে। প্রাচীন কালে এদের থেকে রেহাই পেতে তৈরী হয়েছিল চীনের মহা প্রাচির।

বিশ্বব্যাপি ঐক্যবদ্ধ ইয়াজু মাজুজের রক্তের বন্ধনঃ
এখানে একটি কথা উঠতে পারে, ইয়াজুজ মাজুজ খুঁজতে গিয়ে এদের নিয়ে টনাটানি কেন? কারণ এদের বিশ্বব্যাপি ঐক্যবদ্ধ রক্তের বন্ধন। আধুনিক ডি এন এ পযুক্তি আবিষ্কারের ফলে তারা সহজেই তাদের রক্তের সম্পর্কীয়দের সনাক্ত করতে পারছে। আর যাকে সুবিধা মনে করছে তাকে টেনেটুনে ক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছে। সে জন্য ইহুদী মায়ের চা বিক্রেতা সন্তান মোদি এখন ভারতের প্রধান মন্ত্রী। মরুবালক বারাক হুসেইন ওবামা এখণ মার্কিন মুল্লুকের প্রেসিডেন্ট।এরদোগানও নাকি একই ব্লাডলাইনের। এরা পৃথিবীর যে প্রান্থে থাকুক না কেন ইসলামের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতি বুঝে মুসলিমদের শত্রু-মিত্র চিনতে এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা দরকার।

ইয়াজুজ মাজুজ ইসলামী আক্বিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শেষ জামানায় অনেক মুমিন ইমান হারা হবে এদের ফেতনায় পড়ে।তাই আমাদের এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা থাকতে হবে। এজন্যই লিখাটি কিছুটা বড় হচ্ছে। তথ্য উপাত্ত দিয়ে সব লিখতে গেলে হাজার পাতার বই হবে। তবে আমরা শুধু এর ব্যপ্তি ও বিপদ বোঝার জন্য যতটুকু দরকার সহজে সেটা আলোচনা করব।

এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয় যে যুগে যুগে এই বিষয়গুলো অনেকটা সরলীকরন হয়েছে। আবার ফেতনা ও ফাসাদ সংক্রান্ত কোরআন মজিদ ও রাসুল সাঃ হাদিসে প্রদত্ত ভবিষ্যত বাণী গুলোকে আর কয়টি সাধারন বিষয়ের মতো করে বিচার করা হয়েছে। অথচ দরকার ছিল এগুলোকে স্থান কাল পাত্র বিবেচনায় যুগ পরিক্রমার সাথে মিলিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করা। কারণ ফেতনা এবং ফাসাদ হলো কর্ম। কর্ম সংঘঠনের জন্য স্থান কাল ও পাত্র আবশ্যক। অতএব কোরআন মজিদ ও হাদিসে বির্ণিত এসব ভবিষ্যত বাণীকে ব্যাখ্যা করতে হলে পৃথিবীর অতীত ও বর্তমানের ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষন করে ব্যাখ্যা করতে হবে। এবং এগুলি কখনো একটি নিদ্রিষ্ট সময়ের আগে ব্যখ্যা করা যাবে না। কারণ কর্ম না সংঘঠন না হলে তার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা যাবে কিভাবে? সর্বোপরি এক্ষেত্রে মাহান আল্লাহ‘র অনুগ্রহ থাকতে হবে। এবং কখনোই এসব ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত করে কিছু দাবী করা উচিত নয়। এ সব বিষয়ে বলা উচিত আল্লাহই ভাল জানেন; আল্লাহু আ’লাম। আবার কেউ কোন মত দিলে তাকে তাচ্ছিল্য বা ক্ষেত্র বিশেষ তাকফিরি করা উচিত নয়। অবশ্য সেটা যদি ইসলামী মূল আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। আর এক্ষেত্রে এধরনের সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার শুধু সে সময়কার বিজ্ঞ আলেমগনের।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইয়াজুজ মাজুজ বা গগ মেগগঃ
এদের সম্পর্কে প্রচলিত যে সব কল্পকথা প্রচলিত আছে সেগুলি লিখতে গেলে একটি স্বতন্ত্র কিতাব হবে। অতএব আমাদের সাধারন প্রকৃয়া হলো যা কোরআন ও হাদিসে নাই তার সবই বাতিল, সবই খারিজ। যেখানে কোরআন এবং হাদিস আমাদের সুষ্পষ্ট তথ্য দিয়েছে সেখানে আমাদের অন্য কারো বিকৃত বা কাল্পনিক গল্পের কোন দরকার নাই। প্রয়োজন নাই বিষয়টিকে অতি সরলীকরন বা জটিল করার।

কোরআনে ইয়াজুজ মাজুজের পরিচয়ঃ
কোরআনে ইয়াজুজ মাজুজের পরিচয় দিতে আল্লাহ ” মুফসিদুনা ফী আল আরদি” শব্দ গুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। মুফসিদুনা’র সাধারণ অর্থ দুর্নীতি বা করাপসন। ভয়াবহতা বুঝাতে অনেকে এখানে অশান্তি, বির্পযয় শদ্ধ দিয়ে অনুবাদ করেছেন। মিথ্যা যেমন সকল পাপের মা, তেমনি দুর্নীতি সকল বির্পযয়ের মা। এটি একটি ভয়াবহ তম শব্ধ। নীতিহীনের দ্বারা সব অপকর্মই করা সম্ভব। আর একটি জাতি যখন নীতিহীন হয় তা কতো ভয়াবহ তা হালের আম্রিকা বা এই বাংলাদেশ ক্ষুদ্র উদাহরন। ইয়াজুজ মাজুজের ভয়াবহতা এর ছেয়ে কোটি কোটি গুন বেশী। এরা দুর্নীতি দ্বারা পৃথীবিকে আষ্টে-পৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে, যার কোন প্রতিকার নাই। একমাত্র প্রতিকার আল্লাহপাকের প্রতিশ্রুত সেই মহাগজব ছাড়া। সমস্ত ফেতনা ফাসাদ এমনকি দাজ্জালকেও মোকাবেলা করতে বলা হয়েছে। কিন্ত এই মহাবির্পয্যয় সৃষ্টিকারী এই জাতিকে ইসা ইবনে মারিয়াম আল মসীহ্ আঃ কে ও আল্লাহ বলবেন পাহাড়ে আশ্রয়ে যেতে। বুঝুন অবস্থা।

তাহলে আমরা এই লেখা পড়ছি কেন? এদের না চিনলে আমরা এদের দলভূক্ত হয়ে যাব এবং এদের সাথে আল্লাহ্’র মহা গজবে ধ্বংস হয়ে যাব। এদের দলভূক্ত হয়ে এভাবে ধ্বংস হলে জাহান্নাম শেষ ঠিকানা। তাছাড়া এরা আমাদের হত্যা করার জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহন করেছে। এদের ব্যাপারে না জানলে আমরা সেই ফাঁদ থেকে বাঁচতে পারব না। অলরেডি তাদের দেয়া টাইম বোম টিকা আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় শিশুদের শরীরে সেট করে দিয়েছি। এবং প্রতিনিয়ত তাদের সরবরাহকৃত পণ্য ব্যবহার করে স্লো পয়জনিং হচ্ছি।

রাসুলুল্লাহ সাঃ তাঁর হাদিস সমূহে এদের সংখ্যা, ভয়বহতার খবর দিয়েছেন।
১। জাহান্নামীদের মধ্যে হাজারে ৯৯৯ জন হবে ইয়াজুজ মা-জুজ এবং বনু আদম ও বনু ইবলিস।

২। তারা তাবারিয়া হ্রদের পানি শেষ করে ফেলবে। এ চিহ্নটি সুনিদ্রিষ্ট ভাবে খুরুজে ইয়াজুজ মাজুজ ও খুরুজে দাজ্জালের সাথে সম্পর্কিত। কিছু হাদিসে সমুদ্রের পানি শেষ করে ফেলার কথা বলা হয়েছে। দুটি হাদিস সাংঘর্ষিক। কিন্তু সমুদ্রের লোনা পানি মানুষ সাধারনত খেতে পারে না। তাছাড়া ঐ বিপুল পরিমান পানি খেয়ে শেষ করলেও তা আবার বিপাক প্রকৃয়ার মাধ্যমে সমুদ্রেই ফিরে যাবে। অর্থাৎ মানুষের পক্ষে সমুদ্রের সব পানি শুকিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। তাই প্রথম মতটির উপর জোর দেয় যেতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো তার সমুদ্রের পানির উপর নিয়ন্ত্রন নিবে তা বোঝানো হতে পারে। সেক্ষত্রে দ্বিতীয় মতটিও প্রযোয্য।এছাড়া তারা সারা দুনিয়ার সব পান যোগ্য পানির উপর নিয়ন্ত্রন নিতে যাচ্ছে। আইন করে তাদের দেয়া পানি কিনে খাওয়া ছাড়া অন্য পানি খেতে দেবে না।

৩। তাদের বংশ এত দ্রত বৃদ্ধি পাবে যে, তারা একে এক হাজার হবে।
ভিত্তিহীন কল্প কথা বাদ দিলে কোরআন ও হাদিসের দলিল অনুযায়ী ইয়াজুজ মা-জুজ আর সাবার মতো মানুষ। অতি প্রাকৃতিক কিছু নয়। আর এজামানায় মানুষের পক্ষে কোন ভাবেই ১০০০ সন্তান জন্ম দেয়া সম্ভব নয়। তাহলে রাসুলুল্লাহ্’র হাদিস কি ইঙ্গিত করছে? আমার ব্যক্তি মত হলো অনুসারী।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুপথ প্রকাশিত হওয়ার পর কেউ যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতিত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যেদিকে সে ফিরে যায় আমি সেই দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং দোযখে তাকে নিক্ষেপ করব আর তা কতই নিকৃষ্ট আবাস!’ [সুরা নিসা/১১৫]

রাসুল সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির অনুরুপ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই দলভুক্ত’ [আহমাদ ২/৫০, আবু দাউদ/৪০৩১, সহীহুল জা’মে/৬০২৫]
‘সে আমাদের দলভুক্ত নয় যে আমাদের ছেড়ে অন্যদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে’ [তিরমিযী/২৬৯৫]

কোরআন ও হাদিসের উদৃতি থেকে প্রমানিত, কেউ যদি ইয়াজুজ মা-জুজের রক্তের সম্পর্কীয় নাও হয়, শুধু তাদের অনুসরন বা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগী হওয়ার কারণে ইয়াজুজ মা-জুজের দল ভূক্ত হবে এবং মহা গজবে প্রকৃত (ব্লাড লাইনের) ইয়াজুজ মাজুজেরে মতো অনুসরনকারী ইয়াজুজ মা-জুজও ধ্বংস হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে মীনতি জানাবেন। আল্লাহ তাআলা তাদের গর্দানে’‘নাগাফ’’ জাতীয় এক জীবানু মহামারিরূপে প্রেরণ করবেন। তারা সব ধবংশ হয়ে মরে যাবে যেন একটি মাত্র প্রাণের মৃত্যু হল। এরপর ঈসা (আঃ) ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে নেমে আসবেন, কিন্তু তারা এব বিড়ৎ জায়গাও এমন পাবেন না যেখানে ইয়জুজ-মাজুজের গলিত চর্বি, রক্ত ও দুগন্ধ ছড়িয়ে না আছে। তারপ ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে আবার মিনতি জানাবেন। তখন আল্লাহ তাআলা উটের মত লম্বা গলা বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি প্রেরণ করবেন। পাখিগুলি ইয়াজুজ-মাজুজদের লাশ উঠিয়ে নীচু গর্তে নিয়ে ফেলে দিবে।

চিন্তা করুন পৃথিবী ভরা লাশ আর লাশ। তাহলে তাদের সংখ্যা কতো? আমরা এই প্রবন্ধের শেষে দেখবো বর্তমান পৃথীবির একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী সম্ভাব্য সেই ইয়াজুজ মাজুজ চিহ্নিত হলেও বাকী সবাই ইজুজ মাজুজের অনুসারী, তাদের জীবন ব্যবস্থা গ্রহনকারী, তাদের স্বর্থ্য সংরক্ষণকারী। কোরআন ও হাদিসের দলিল অনুযায়ী এরা তাদের দলভূক্ত। এমনকি বহু প্র্যাকটিসিং মুসলিমও।

কেন আল্লাহ্ এদের এভাবে ধ্বংস করবেন?
উদ্দেশ্য আল্লাহ্’র জমীনে তাঁর দ্বীন কায়েম করা। দীন আল হক্ক। সারা পৃথিবীতে। অথচ সারা পৃথীবির তাবৎ বড় শক্তিগুলো ইসলামের বিরুদ্ধেই লড়ছে। যে পুতিন কয়েকদিন আগে মসজিদ উদ্ভোদন করেছে সে এখন মুসলিম জনপদে হত্যায় মেতে উঠেছে। মেসেজ পরিস্কার। মুসলিম মসিজিদে যাও। প্রাণ ভরে নামাজ পড়। তোমাদের জন্য আরাম দায়ক সু-শীতল মসজিদ বানিয়ে দিব। কিন্ত খবরদার, যমিনে আল্লাহ্’র আইন নিয়ে কথা বলবে না। বোম ঢেলে পরপারে পাঠিয়ে দেব।

আর মুসলিমদের অবস্থা? নিচের কয়েকটি ভাগ দেখুন।
১। পিওর গনতন্ত্রী। মনে প্রাণে বিশ্বাস করে গনতন্ত্র ছাড়া আর্তসামজিক উন্নয়ন সম্ভব না। যারা শরীয়া আইনের কথা বলে তারা সন্ত্রাসী।

২। সমাজতন্ত্রী। অবস্থা উপরের মতো।

৩। ইসলামিক গনতন্ত্রী। এরা মনে করে আল্লাহ তাঁর রসুল যেভাবে দীন কায়েম করেছেন সেভাবে বর্তমানে দীন কায়েম সম্ভব না। অর্থাৎ মারামারি করে নয়, ভোটে পারলামেন্ট গিয়ে ইসলাম কয়েম করতে হবে। এদের ধরনা, তরবারীর ছায়া তলে জান্নাত নয়, পারলামেন্টের এসির ভিতর আরাম। অবশ্য এখন টের পাচ্ছে। ওহ্, এরা কাফেরদের দীন কায়েমের সহযোগী মনে করে। তাই তাদের সুদৃষ্টিতে থাকতে চায়।
অবশ্য এরাও গন-সমাজতন্ত্রীদের মতো স্বসশ্র জিহাদকে সন্ত্রাস মনে করে। মুজাহিদদের সন্ত্রাসী মনে করে।

৪। এরা জম্ভি। পেট, পিঠ আর যৌনাঙ্গ সর্বস্ব আদম সন্তান। নামটাই শুধু মুসলিম। এরা গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, শরীয়া কয়েম কোন কিছুই বোঝেনা। শুধু বোঝে গেম, গান, মুভি, ক্যারিয়ার, ফ্রেন্ড ফেসবুক ইত্যাদি। এদের ইসলাম শুধু ঈদের সময়। তাও নতুন জামা কাপড় এবং বন্ধুদের নিয়ে ফুর্তি করা। এরা ইসলামের কথা শুনলে নাক সিটকায়। এ গোত্রের মুসলিম যে বিশ্বে কি পরিমান তা আপনি কিছু দেশ ভ্রমন না করলে বুঝতে পারবেন না। হালের যুব সামাজের দিকে তাকান না। অবস্থা টের পাবেন।

৫। এরা সহজ বোঝে। নিজের জান মাল দিয়ে দাওয়া ইলাল্লাহ ও জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ্ করে।

চিন্তা করুন, কুফর শক্তি ও প্রথম ৪ প্রকারের মুসলিমদের রেখে সারা দুনিয়াতে দীন কায়েম সম্ভব? না। এরা হকের সাথে যুদ্ধ করেই যাবে। source: what islam says থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ